Monday, October 30, 2006

প্রেমের চিঠি - ২

প্রিয়,
শুভেচ্ছা নাও, ভালবাসা নাও। ভালবাসা, এই ভালবাসা কি আমার সঠিক জানা ছিল না, তুমি আমাকে ভালবাসা শিখালে, ভালবাসতে শিখালে। তোমার চিন্তায় মগ্ন থাকাই ভালবাসা, তোমার টেলিফোনের অপেক্ষায় থাকা, তোমার সর্বাঙ্গীন ভাল চাওয়া, তোমার সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ্য মনের জন্য প্রার্থনা করা, উদগ্রীব থাকা ভালবাসা। তোমার সঙ্গ চাইতে আশা সেই সব ছেলেদের অভিশাপ দেওয়া ভালবাসা, তোমার ভালবাসা অনুভব করা ভালবাসা। ভালবাসা কিছু অভিমান, কিছু ভুল বোঝাবুঝি, কিছু কস্ট, কিছু নির্ঘুম রাত ভালবাসা। ভালবাসা তোমার কস্টে আমার ব্যাথা, আমার ব্যাথায় তোমার সুখ। ভালবাসা তুমি সুখে থাকা, ভালবাসা তুমিই আমার সব।

এখন গভীর রাত, আমার সামনে কাগজ, কলম, আর তোমার ভালবাসা, তোমার অনুভব। আমি তোমাকে ভালবাসি, তোমাকে যে আমার আজীবন ভালবাসতেই হবে, তুমি যে আমার প্রাণ, প্রাণকে যে ভালবাসেনা সে তো জীবিত নয়। আমি আজীবন জীবন্ত ও সজীব থাকতে চাই, চাই তোমাকে, আমার প্রাণ, আমার অস্তিত্বকে ভালবাসতে। তুমি আমার সার্বক্ষনিক অস্তিত্ব, আমার প্রাণ বিন্দু, তুমি আমার মন-প্রাণ থেকে যে দিন হারিয়ে যাবে সেদিন আমর মৃত্যু হবে। আমি মরতে চাই না, আমি বাঁচতে চাই, আমি তোমাকে নিয়ে বাঁচতে চাই, ভালবাসতে চাই তোমাকে।

সামনে আরেকটা ঈদ এলো। এই ঈদ টা কি আমার সব ঈদ গুলোর মতই যাবে। কখনই না, তোমার ভালবাসা পাবার পর থেকে প্রত্যেকটা দিন আমার ভাল থেকে ভাল কাটছে। প্রত্যেকটা ঈদ আনন্দময় থেকে আনন্দময় হচ্ছে। তুমি যতদিন আমার পাশে থাকবে ততদিনই আমার আনন্দ, আমার সুখ বাড়তে থাকবে। আমি সৌভাগ্যবান, তোমার দেখা পেয়েছি, তোমার ভালবাসা পেয়েছি, তোমাকে ভালবাসতে পেরেছি, আমি তোমাকে ভালবাসি। তোমার জন্যই বেঁচে আছি।
ভালবাসা নিও,
তোমারই .............

Sunday, October 29, 2006

প্রেমের চিঠি - ১

প্রিয়,
আমি তোমাকে ভীষণ ভালবাসি, আমি তোমাকে ভালবাসি সম্রাট শাহজাহান যেভাবে মমতাজকে ভালবেসেছিল তার চাইতেও বেশী, কিন্তু হায় তোমার জন্য আমার এই ভালবাসার কথা কেউ জানবে না কারণ তোমার জন্য কোন তাজমহল আমি বানাতে পারব না। তোমাকে আমি ভালবাসি রোমিও যেভাবে জুলিয়েটকে ভালবেসে ছিল, ফরহাদ যেভাবে শিরীনকে ভালবেসে ছিল, মজনু যেভাবে লাইলীকে ভালবেসে ছিল তার চাইতেও বেশী, কিন্তু হায় আমি তোমাকে ছেড়ে মরতে পারব না। আমি তোমাকে ভালবাসি রবীন্দ্রনাথের লেখা ছোট গল্পের নায়ক অপু যেভাবে হৈমন্তীকে ভালবেসে ছিল তার চাইতেও বেশী, কিন্তু হায় তোমার জন্য কোন গল্প আমি লিখতে পারব না। আমি তোমাকে ভালবাসি কবি যেমন কবিতাকে ভালবাসে তার চাইতেও বেশী কিন্তু হায় তোমার জন্য কোন কবিতা আমি লিখতে পারব না। আমি তোমাকে ভালবাসি আদম যেভাবে হাওয়াকে ভালবেসে ছিল তার চাইতেও বেশী কিন্তু তুমি আমাকে ভুল পথে চালিত কর না। আমি তোমাকে ভালবাসি ইউসুফ যেভাবে জুলেখাকে ভালবেসে ছিল তার চাইতেও বেশী কিন্তু তুমি আমাকে ব্যবহার কর না। আমি তোমাকে ভালবাসি সনি এন্টারটেইন্টমেন্ট টেলিভিশনের মত কিন্তু তুমি চ্যানেল মানে আমায় চেঞ্চ কর না। আমি তোমায় ভালবাসি নায়গ্রা জল প্রপাতের পানির ঝিকিমিকি সৌন্দর্যের চেয়েও বেশী কিন্তু হায় তোমাকে নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখাতে নিয়ে যেতে পারব না (মানি প্রবলেম)। আমি তোমাকে ভালবাসি আমার শরীরের প্রতিটি রক্ত বিন্দু, শিরা, উপশিরা, আমার জীবনের চেয়েও বেশী কিন্তু হায় আমি তোমার জন্য জীবন দিতে পারব না (আম্মু কাঁদবে)। আমি তোমাকে ভালবাসি তোমার সৌন্দর্যের চেয়েও বেশী কিন্তু হায় আমার ভালবাসা তোমার সৌন্দর্যকে অতিক্রম করতে পারবে না। আমি তোমাকে ভালবাসি তোমার সততার চেয়েও বেশী কিন্তু হায় আমার ভালবাসা তোমার সততাকে অতিক্রম করতে পারবে না। আমি তোমাকে ভালবাসি তোমার রেশমী চুলের অপরূপ ঢেউ, দীপ্তিময় চোখ, তীর্যক নিখুঁত ভ্রু, ভরাট ঠোঁট, উন্নত গ্রীবা, কমনীয় হাত, ফারাও স্ত্রীদের চেয়েও সুন্দর পা, তার চেয়েও বেশী কিন্তু তোমার সৌন্দর্যের তীব্রতার কাছে আমার ভালবাসা কিছুই নয়। আমি তোমাকে ভালবাসি চিৎকার করে পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে জানিয়ে দেবার মত বুক ফাটা আর্তনাদ করে বলা “ প্রিয় তুমি কি জান আমি তোমাকে, তোমার দেহের প্রতিটি অনু-পরমাণুকে, তোমার মনের না জানা বিশালতাকে, ভালবাসি, ভালবাসি“। কিন্তু হায় তাতেও আমার মন ভরবে না। আমি তোমাকে ভালবাসি, আমি তোমাকে ভালবাসি, আমি তোমাকে ভালবাসি। প্রিয়, তুমি কি শুনতে পারছ আমার কথা, তুমি কি আমাকে তোমার পাশে বসিয়ে, একটু বলবে “তুমি নিশ্চিন্ত থাক ..... , আমি দেরী করে ফেলেছি, আমাকে নিয়ে যাবার মত সব, গাড়ি, ট্রেন, বিমান আমায় ছেড়ে চলে গেছে। পৃথিবীতে একমাত্র তুমিই আছ, যে আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে আমাদের সঠিক গন্তব্যে“।
ইতি তোমার,
..................
নির্দিস্ট ভাবে বিষয়বস্তু উপস্থাপন

আমাদের ভার্সিটিতে তিনটা ইংরেজী কোর্স করতে হয় বাধ্যতামূলক এবং এই তিনটা কোর্সেই সাধারণত ইংরেজী সাথে সাথে, ভাষা জ্ঞান, নির্দিস্ট করে কিছু উপস্থাপনার বা বর্ণনা শিখানো হয়। তাছাড়া বিভিন্ন কোর্সেই প্রেজেন্টেশান ব্যাপারটা আছে যেখানে ছাত্রকে কোন প্রজেকশন স্ক্রীনে ইংরেজীতে তার বিষয় বর্ণনা করতে হয় এবং সাথে সাথে অডিয়েন্স এর প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে খুবই স্পেশেফিক, ভিবিড এবং সংক্ষিপ্ত। এই স্পেশেফিক বিষয়টা সব জায়গায় মোটামুটি মানতে চেস্টা করি। যাতে আমি কি বলছি বা করছি তা যেন শ্রোতা সহজে নির্দিস্ট করে বুঝতে পারে। যেমন: কেই যদি জিজ্ঞেস করে,

ঈদে কি করলেন?
অনেক কিছু, অনেক ঘোরাঘুরি আর আনন্দ। বা
পানসে, ম্যান্তামারা, কোন আনন্দ হয় নাই।
এ ধরনের উত্তর হল জেনারেল। মানে কিছু স্পস্ট নয়।

ঈদে কি করলেন?
অনেক কিছু, অনেক ঘোরাঘুরি আর আনন্দ। চাচার বাসায় গিয়েছিলাম, কাজিনদের সাথে অনেক মজা হয়েছে। বা
পানসে, ম্যান্তামারা, কোন আনন্দ হয় নাই। ভাবছিলাম জানেরে সাথে ঘুরাঘুরি করব কিন্তু ওর হইছে জ্বর, ঘরথেকেই বাহির হয় নাই।

মানে হল একটা উদাহরন দেওয়া। স্পস্ট করে বুঝানো আপনি কেন মজাপেলে বা পেলেন না।

সেদিন পিপিডি স্যারের ক্লাস করছিলাম। তিনি অংক পড়ান, তার ক্লাসে সাধারণত কেউ কথা বলেন না। একটা কিছু পেলেই তিনি ছেলেমেয়েদের নাকাল করে ছাড়েন। স্যার ক্লাসে আবার গল্প টল্পও অনেক করেন। একবার বললেন কোন বিষয়ে বললে আমরা যাতে স্পেসেফিক ভাবে বলি বা করি। স্যার আবার ওনার অনার্স, মাস্টার্স, পিএইডি করেছেন অংকে রাশিয়া, তিনি মেডিক্যাল স্ডুডেন্ট ছিলেন, অংক প্রিয় ছিল তাই মেডিসিন ছেড়ে অংক পড়তে রাশিয়া যান। সেখানে অংক কুইজ নাকি বোর্ডে করতে হত এবং সহ ছাত্রদের বুঝিয়ে দিতে হত। সবাই বুঝেছে বললে নাম্বার নয়তো অংক ঠিক হলেও ছাত্ররা যদি বলত বুঝি নাই তাহলে শূন্য। তার মানে অল্প সময়ে স্পেসেফিক ভাবে অংক বুঝাতে হত।

স্যার বললেন তোমরাতো এখানে কোর্স কর, প্রেজেন্টেশন কর, ছাত্রদের প্রশ্ন উত্তর দাও তোমরা বুঝবে স্পেসেফিক বলতে কি বুঝায়। আমার এক বলদ শালা আছে, গাধাটা আবার ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু তোমাদের মত পড়ার সুযোগ পায় নাই। তাই বলদ এসব বুঝবেনা। সেদিন জিজ্ঞেস করলাম পাঁচ, ছয় টা মেয়ে ছবি দেখেছ, কাউকে কি তোমার পছন্দ হয়েছে বিয়ে করার জন্য, বলদটা কি বলল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমি কিছুই বুঝলাম না। শেষে আমার স্ত্রীকে বললাম তোমার বলদ ভাইকে বল সে কি বলতে চায় সে যেন তোমাকেই বলে, আমাকে আর বলতে হবে না।

আমাদের পপ স্টার তিশমার সাথে এই অংক কোর্সটা করছি। তিশমাকে আপনাদের চিনার কথা, টিভিতে ওর অনেক গান-টান দেখায়। সে আবার পড়াশুনায় ও ভাল। ভাল গ্রেড পাচ্ছে। সে স্যারকে একটা প্রশ্ন করাতেই স্যার ওকে পেয়ে বসল। দেখ একটা বিষয় শুধু একটু জানলেই হয় না। এর শেষ পর্যন্ত জানতে হয়। তুমি যদি বিদেশে যাও তাহলে দেখবে তুমি বিশেষ সুবিধা করতে পারছনা। কোন অংকের ছাত্রের সাথে তুমি কথা বললে দেখবে তুমি বিশেষ কিছুই বলতে পারছ না। কিন্তু সে অংকের শেষ কথাটা জানে তুমি তখন অংক না পেরে যদি বল আমি তো মিউজিকও জানি তাহলে সে বলবে আস আমার বন্ধুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। সে বন্ধুটি দেখবে মিউজিকের শেষ কথাটা জানে সেখানে তুমি কিছুই বলতে পারবেনা। তাই যে জিনিসটা করবা তার শেষটা যেন জান তার চেস্টা করবা।
আমার কবিতা

স্বাগতম

যে যেতে চায় যেতে দাও তাকে
কি ভীষণ সুখ পাবার জন্য
বেঁধে রাখতে চেয়েছি কতজন কে
কি ভীষণ দুঃখ দিয়ে অনায়াসে
চলে গেছে তারা নির্বিকার ভাবে

যে আসতে চায় স্বাগতম তাকে
যে এসেছে স্বাগতম তাকেও
কি ভীষন আনন্দ পাবার আশায়
বসে সদর দরজায়, অপেক্ষায় থেকে থেকে
অবসাদে পূর্ণ হয়ে গেছে শরীর, তবু
অবসর চাই না যে কিছুতেই আমি
স্বাগতম জানাতে হবে যে আমাকে
যিনি আসবেন তাকে।
ছোট গল্প

হোপের সাথে আমার পরিচয়টা অনেক পুরানো। জনম জনমে পরিচয় বললে ভুল হবে, তবে কবে থেকে পরিচয় তা মনে করতে পারিনা এতটাই পুরানো। তখন ওরা পুরানো ঢাকায় থাকত, এখনকার মত এত রমরমা অবস্থাতো ছিল না বা লন্ডন ছিল অনেক দূরকার স্বপ্ন। পড়াশোনা তেমন করতনা কিন্তু রেজাল্টা বড়াবরই ভাল ছিল। ওর বাবা কি করত জানতাম না তবে সারাদিন বাইরে বাইরে থাকত, ব্যবসা ট্যাবসা করত মনে হয়। টাকা পয়সার রমরমা অবস্থা কোনদিন দেখি নাই তবে, অল্পে ভাল থাকার অপ্রান চেস্টা। মাঝে মাঝেই ওদের বাসায় যেতাম, না গেলেও হয় তবুও যেতাম, হোপকে অবশ্য পাওয়া যেতনা ও ওর রুম থেকেই বের হতনা। যতটুক সময় দিত তা হত একেবারে পারফেক্ট টাইম। দুনিয়ার এমন কিছু ছিল না যা সে জানত না, ওর জ্ঞানগর্ভ কথা বার্তা শুনেই সময় কাটত, রসিকতা টসিকতা কি জিনিস তা তার কাছে গিয়ে জানা যাবেনা, জানা যাবে শুধু জ্ঞানের কথা। মেয়েদের কাছে সচরাচর যেটা দেখা যায় না। এ দিকে আবার আংকেলের ব্যবসা ভাল যাচ্ছেনা একটা ঝুকি পূর্ণ সময় যাকে বলে এ রকম অবস্থা তবে বাইরে থেকে বুঝার উপায় নাই। একদিন ওদের বাসায় গেছি হোপ বলল ভাইয়া আমি তো লন্ডনে একটা স্কলারশীপ পেয়েছি, ওখানে একটা নামি দামি কলেজে পড়ার সুযোগ। আমি তো শুনে অবাক, আরে এই মেয়ে বলে কি, একাই সব কিছু করে ফেলল। তার পরের ঘটনাতো একটা ইতিহাসই, ও লন্ডন চলে গেল আমরা এখানেই পড়ে রইলাম কিছুদিন পর শুনলাম আংকেল আন্টিও নাকি লন্ডন চলে গেছে। এমেয়ে ভবিষ্যতে না জানি আর কি কি করবে আমরা শোনার অপেক্ষায় রইলাম।
হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল

আমি একদিন রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। হাটতে যদিও আমার ভাল লাগে না তবুও হাটছি। কিন্তু সব কিছু কেমন অপরিচিত লাগছে, সবাই আমার দিকে চেয়ে আছে। ছেলেরা এবং মেয়েরাও হা করে তাকিয়ে আছে মুখ কিছুতেই বন্ধ করতে পারছে না। আমি তো অবাক কি হল ব্যাপার টা কিছুই বুঝছি না। এ রকম তো আগে কখনও হয় নি। ব্যাপার টা আসলে কিছুই না। কারণ সেদিন আমার ইয়েকে নিয়ে একটু হাটতে বেরিয়েছিলাম এই যা............

দুধে আলতা বরণ কন্যা ,
মেঘ বরণ কেশ,
হাসিতে তার মুক্ত ঝরে,
চোখেতে লুকায় সাগর

বেশি বলছি না ভাই আমার ইয়ের আবার এসব বর্ণনা কম হয়, তার যেন দুধ বেশি না আলতা বেশি এটা বের করা যাবে না। আবার, মেঘ বেশি কাল না কেশ কাল তাও বের করা যাবেনা, মুক্ত তো ধারে কাছেও আসবে না। আর সাগর তো লজ্জায় মুখ লুকায়।
তাই প্রকৃতির এ অপার সৌর্দয্যগুলোকে লজ্জা দিবার জন্য তাকে নিয়ে খুব একটা বের হইনা এই আরকি...........

সে দিন ওর সাথে মোবাইলে কথা বলছিলাম। কোন জরুরি কথা না। কেমন আছ, কি কর, আমাকে নিয়ে বেশী চিন্তা কর না আমি তো তোমারই আছি এই টাইপের, হঠাৎ মোবাইলে শুরু হল ডিস্টার্ব উল্টা পাল্টা আওয়াজ আসতে শুরু করল, কথা ঠিক মত আসছে না সিগনাল উল্টা পল্টা হয়ে যাচ্ছে। এর পর থেকে ওর মোবাইল থেকে ফোন আসলেই এরকম হয়। আমি তো মহা চিন্তায় পড়লাম কি হল, কি হল। মোবাইল কোম্পানিতে খোজ করলাম সমস্যা টা কোথায়, ওরা আবার খুব তরিৎ গতিতে সমস্যাটা বের করে ফেলল। আসলে সমস্যাটা হল ওর কন্ঠটা এতটাই মিস্টি যে সার্ভার ঠিক মত সিগনাল রিলে করতে পারছে না, মেমরি গন্ডগোল হয়ে যাচ্ছে, প্রসেসরের হার্ট বিট বেড়ে যায়, কম্পিউটার অভার হিটেট হয়ে যায়। কিছুতেই তা বন্ধ করা যাচ্ছে না, তাই ওরা আমায় অনুরোধ করল আমার জান যেন তাদের সিম আর ব্যবহার না করে তাদের সার্ভিসই না কি হুমকির মুখে পড়েছে। আমি হতাশ আর ফোনে কথা বলতে পারবনা। শেষে আবার সেই চিঠি চালাচালি শুরু করতে হল.............কি আর করা আমার জানের জন্য আমি তো সব কিছু করতে প্রস্তুতই আছি......

আমার জানের কিছু গুনাবলী:
আমার জানের মধুর হাসি যেন বহমান নদীর কলতান,
তার কথা যে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, লতা মঙ্গেশকরের গান,
তার চোখ যেন সীমাহীন সম্ভাবনার দূত্যি, আশার আলো,
তার হাটা যেন দৃপ্ত পদে আগুয়ান কোন মহীয়সী নারী,
তার মন যেন মহাকাশের মত বিশাল এবং স্বচ্ছ পানির মত পরিস্কার,
এবং ভালবাসায় সে খুবই স্বার্থপর এবং তা শুধুই আমার জন্য।

আমার আবার আইসক্রীম খুবই প্রিয়, আমার জানেরও। কিন্তু অনেকদিন আইসক্রীম খাওয়া হয় না তাই ভাবলাম আমার জানকে নিয়ে একদিন আইসক্রীম খেতে যাই। তাই একদিন গেলাম একটা আইসক্রীমের দোকানে, সেখানে দেখলাম অনেকেই এসেছেন আইসক্রীম খেতে। আমরাও বসে পড়লাম এক টেবিলে। যেই না মাত্র ওকে নিয়ে বসেছি, কিসের যেন একটা গুঞ্জন শুরু হল, সবাই যেন কিছু বলছে। সবাই ওয়েটারকে ডাকেছে আর ডেকে কড়া মেজাজে কিছু যেন বলছে। তো আমারা তো কিছুই বুঝছি না, একসময় দেখি ওয়েটার আমাদের আইক্রীম এনে দিল। কিন্তু একি! আইসক্রীম যে গলে পানি হয়ে গেছে, এদিকে আবার এ/সি চলছে জোরে সোরে কিন্তু আইসক্রীম যাচ্ছে গলে, চিন্তিত ওয়েটার বলল, "এতক্ষণ তো ঠিকছিল কিন্তু হঠাৎ কি শুরু হল "। কিন্তু সবাই কিছু বুঝছে না সবাই দোকানিকে বকছে। আমি আবার ব্যপারটা ঠিকই বুঝতে পেরেছি আসলে আমার জানের আবেদন এতটাই উষ্ণ যে আইসক্রীম বেচারাও সে আবেদন উপেক্ষা করতে পারছে না, গলে পানি হয়ে যাচ্ছে। আমিতো আবারও হতাশ, আমার জানকে নিয়ে আর আইসক্রীম খাওয়া হবে না।

আমার জান আবার ধার্মিক মানুষ। নিয়মিত নামাজ রোজা আদায় করে। রমজান তো এল তাই রোজাও রাখছে, রোজা রেখে রেখে মোমের পুতুল মেয়েটা কেমন শুকিয়ে যাচ্ছে, তাকানো যায় না, বুকটা হা হা হু হু করে। রমজানে তো রোজা রাখতেই হবে তাই আমার এই বুকের হাহাকার কোথায় রাখব আমর জানা নাই। কোথায়ও যে রাখব সেই সাহসও নাই, জানি আমার বুকের হাহাকার দেখলে বিশাল সাজানো মরূদ্যান ও যন্ত্রনায় সাহারা মরুভুমি হয়ে যাবে। তাই বুকে কস্ট মুখ বুজে সহ্য করছি। যাই হোক রমজান মাসে সাবাই শপিং মলে যায়, আমারাও গেলাম একদিন। সেখানে তো আবার আনন্দের ধুমধাম চলছে সবদিকে, গান বাজনা, সানাই কত কি, পারলে তো উনারা লাইভ কর্নসাট আয়োজন করেন যাতে ভীড় বাড়ে। আমিতো আবার আমার জানকে নিয়ে খুবই চিন্তিত এসব ধুমধাম কিছুই কানে ঢুকছে না। শেষমেষ একদোকানে ঢুকলাম, ওমা একি দোকানের সাধের বস সাউন্ড সিস্টেম দিয়ে আর আওয়াজ বের হয় না, মিউজিক আর চলছেনা। যাই হউক আমরা এ দোকানে ঢুকি তো ও দোকানে ঢুকি, কিন্তু যেই দোকানে ঢুকিনা কেন সাউন্ড সিস্টেম আর কাজ করে না। কেউ কিছু বুঝছে না ব্যাপারটা কি, কিন্তু আমি তো জানি আমার জানের এই রোজা রাখা শুকনো মুখ দেখে, সাউন্ড সিস্টেমের মন এতটাই ভারী হয় যে শত চেস্টা করলেও কোন আওয়াজই আর বের হবে না।